বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নাবলি (MCQ) – প্রশ্নের মান ১
-
কোনটি অস্থায়ী খরতার জন্য দায়ী?
উত্তর: (d) Fe(HCO3)2 -
জলকে জীবাণুমুক্ত করতে জলে যোগ করা হয়—
উত্তর: (a) ব্লিচিং পাউডার -
ক্যাটায়ন বিনিময় রেজিনের সাহায্যে জল থেকে অপসারিত করা হয়—
উত্তর: (a) ধাতব আয়ন -
ব্ল্যাক ফুট রোগ কোন্ মৌলের দূষণে হয়?
উত্তর: (d) As (আর্সেনিক)
অতি-সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলি (VSAQ) – প্রশ্নের মান ১
শূন্যস্থান পূরণ করো:
- ব্লিচিং পাউডার থেকে নির্গত ক্লোরিন জলকে জীবাণুমুক্ত করে।
সত্য না মিথ্যা লেখো:
-
Ca ধাতুর ক্লোরাইড লবণ যদি জলে দ্রবীভূত থাকে, তাহলে অস্থায়ী খরতার সৃষ্টি হয়।
উত্তর: মিথ্যা (ক্লোরাইড ও সালফেট লবণ জলের স্থায়ী খরতা সৃষ্টি করে)।
এক কথায় উত্তর দাও:
-
কোন্ জলে সাবান ঘষলে সহজেই ফেনা উৎপন্ন হয়?
উত্তর: মৃদু জলে। -
বৃষ্টির জল মৃদুজল না খরজল?
উত্তর: মৃদু জল। -
জলের একটি নমুনায় ফেরাস সালফেট পাওয়া গেল। ওই জলের খরতা কোন্ প্রকৃতির?
উত্তর: স্থায়ী খরতা। -
শৈবালের পচনে জল দূষিত হওয়াকে কী বলে?
উত্তর: ইউট্রোফিকেশন (Eutrophication)। -
জলের স্থায়ী খরতা দূরীকরণের একটি পদ্ধতি উল্লেখ করো।
উত্তর: আয়ন-বিনিময় পদ্ধতি (বা পারমুটিট পদ্ধতি)। -
মানুষের রক্তে জলের পরিমাণ কত?
উত্তর: প্রায় ৯০-৯২% (রক্তরসে)। -
পানীয় জল পরিশোধনের একটি পদ্ধতি উল্লেখ করো।
উত্তর: ক্লোরিনেশন (বা ফুটানো)। -
ক্যাটায়ন বিনিময়কারী রেজিনে কোন্ আয়ন থাকে?
উত্তর: H+ (হাইড্রোজেন আয়ন)। -
অ্যানায়ন বিনিময়কারী রেজিনে কোন্ মূলক থাকে?
উত্তর: OH– (হাইড্রক্সিল মূলক)। -
একটি পেস্টনাশকের নাম লেখো।
উত্তর: ডিডিটি (DDT)। -
একটি রাসায়নিক সারের নাম লেখো।
উত্তর: ইউরিয়া (Urea) বা সুপার ফসফেট। -
একটি আর্সেনিক যৌগের নাম লেখো যা জলে আর্সেনিক দূষণ ঘটায়।
উত্তর: সোডিয়াম আর্সেনাইট (NaAsO2)। -
আর্সেনিক দূষণের ফলে মানুষের যে রোগ হয় তাকে কী বলে?
উত্তর: আর্সেনিকোসিস (Arsenicosis)। -
পায়ের তলায় কালো ছোপ পড়াকে কী বলে?
উত্তর: ব্ল্যাকফুট ডিজিজ (Blackfoot disease)। -
ফ্লুরোসিস রোগ কী কারণে হয়?
উত্তর: পানীয় জলে অতিরিক্ত ফ্লুরাইড (Fluoride) মিশে থাকলে ফ্লুরোসিস রোগ হয়।
বামস্তম্ভের সঙ্গে ডানস্তম্ভের সামঞ্জস্য বিধান করো:
| বামস্তম্ভ | ডানস্তম্ভ (সঠিক মিল) |
|---|---|
| (a) অ্যানায়ন বিনিময়কারী রেজিন | (iii) RNH2 |
| (b) ক্যাটায়ন বিনিময়কারী রেজিন | (i) R–H |
| (c) ডিটারজেন্ট | (iv) ফসফেট যৌগ |
| (d) অতিবেগুনি রশ্মি | (ii) জল জীবাণুমুক্তকরণ |
সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলি (SAQ) – প্রশ্নের মান ২
-
মৃদু জল কাকে বলে?
উত্তর: যে জলে সাবান ঘষলে সহজেই প্রচুর ফেনা উৎপন্ন হয়, তাকে মৃদু জল (Soft water) বলে। -
খর জল কাকে বলে?
উত্তর: যে জলে সাবান ঘষলে সহজে ফেনা উৎপন্ন হয় না বরং সাদা অদ্রাব্য অধঃক্ষেপ বা গাদ সৃষ্টি হয়, তাকে খর জল (Hard water) বলে। -
জলের খরতার কারণ কী?
উত্তর: জলে ক্যালসিয়াম (Ca) এবং ম্যাগনেসিয়াম (Mg)-এর বাইকার্বোনেট, ক্লোরাইড বা সালফেট লবণ দ্রবীভূত থাকলে জলের খরতা সৃষ্টি হয়। -
জল দূষণ বলতে কী বোঝো?
উত্তর: জলে অবাঞ্ছিত ও ক্ষতিকর রাসায়নিক, জৈব বা অজৈব পদার্থ মিশে জলের ভৌত ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন ঘটলে এবং তা জীবজগতের জন্য ক্ষতিকর হলে তাকে জল দূষণ বলে। -
জল দূষণের দুটি কারণ উল্লেখ করো।
উত্তর: ১. কৃষিকাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক বৃষ্টির জলের সাথে ধুয়ে জলাশয়ে মিশলে। ২. কলকারখানার দূষিত রাসায়নিক বর্জ্য সরাসরি নদীর জলে ফেললে। -
জলের আর্সেনিক দূষণ কী?
উত্তর: ভূগর্ভস্থ পানীয় জলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্ধারিত নিরাপদ মাত্রার (0.01 mg/L বা 0.05 mg/L) চেয়ে বেশি পরিমাণ আর্সেনিক যৌগ মিশে থাকাকে জলের আর্সেনিক দূষণ বলে। -
আয়নমুক্ত জল কাকে বলে?
উত্তর: যে জল থেকে H+ এবং OH– আয়ন ছাড়া অন্যান্য সব রকম ক্যাটায়ন ও অ্যানায়ন সম্পূর্ণভাবে দূর করা হয়েছে, তাকে আয়নমুক্ত জল (Deionized water) বলে। -
জলের ফ্লুরাইড দূষণ কাকে বলে?
উত্তর: পানীয় জলে ফ্লুরাইড আয়নের মাত্রা অনুমোদিত সীমার (সাধারণত 1.5 mg/L) বেশি হলে তাকে জলের ফ্লুরাইড দূষণ বলে, যা দাঁত ও হাড়ের ক্ষতি করে। -
ইউট্রোফিকেশন বলতে কী বোঝো?
উত্তর: জলাশয়ে কৃষিজমির সার (ফসফেট ও নাইট্রেট) বা ডিটারজেন্ট মেশার ফলে জলে পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, যার ফলে শৈবাল ও জলজ উদ্ভিদের অত্যধিক বৃদ্ধি ঘটে এবং জলে অক্সিজেনের অভাব দেখা দেয়। এই ঘটনাকে ইউট্রোফিকেশন বলে। -
কলিফর্ম কাউন্ট কী?
উত্তর: ১০০ মিলিলিটার জলে উপস্থিত কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়ার (যেমন- E. coli) সংখ্যাকে কলিফর্ম কাউন্ট বলা হয়। এটি জলের জৈব দূষণ বা মলমূত্র দ্বারা দূষণের মাত্রা নির্দেশ করে।
দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্নাবলি (LAQ) – প্রশ্নের মান ৩
-
খরজলে সাবান ঘষলে ফেনা হয় না কেন?
উত্তর: সাবান হলো উচ্চ ফ্যাটি অ্যাসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ। খরজলে উপস্থিত Ca2+ ও Mg2+ আয়নের সাথে সাবান বিক্রিয়া করে অদ্রাব্য ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম সোপ তৈরি করে থিতিয়ে পড়ে, তাই সহজে ফেনা হয় না। -
জলকে ক্যাটায়ন মুক্ত করা হয় কীভাবে?
উত্তর: জলকে ক্যাটায়ন-বিনিময়কারী রেজিনের (যেমন- R-H) স্তরের মধ্য দিয়ে চালনা করলে জলের Ca2+, Mg2+ ইত্যাদি ক্যাটায়নগুলি রেজিনের H+ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়ে জল ক্যাটায়নমুক্ত হয়। -
জলকে অধাতব আয়ন (অ্যানায়ন) মুক্ত করা হয় কীভাবে?
উত্তর: ক্যাটায়নমুক্ত জলকে অ্যানায়ন-বিনিময়কারী রেজিনের (যেমন- R-NH3OH) মধ্য দিয়ে পাঠালে জলের Cl–, SO42- ইত্যাদি অ্যানায়নগুলি রেজিনের OH– দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়ে জল অ্যানায়নমুক্ত হয়। -
স্ফুটন পদ্ধতিতে জলের অস্থায়ী খরতা দূরীকরণ পদ্ধতি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
উত্তর: জলকে ফোটালে জলে দ্রবীভূত ক্যালসিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামের বাইকার্বোনেট লবণ বিযোজিত হয়ে অদ্রাব্য কার্বোনেট লবণে পরিণত হয় এবং পাত্রের নীচে থিতিয়ে পড়ে। পরে পরিশ্রুত করে মৃদু জল পাওয়া যায়। -
পানীয় জলকে আর্সেনিক মুক্ত করার উপায় উল্লেখ করো।
উত্তর: রাসায়নিক অধঃক্ষেপণ পদ্ধতিতে জলে ফিটকিরি, ফেরিক সল্ট ও ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে আর্সেনিককে অদ্রাব্য যৌগ হিসেবে থিতিয়ে আলাদা করা যায়। এছাড়া অ্যাক্টিভেটেড অ্যালুমিনা ফিল্টার ব্যবহার করেও জল আর্সেনিক মুক্ত করা যায়। -
জলকে ফ্লুরাইড মুক্ত করার উপায় উল্লেখ করো।
উত্তর: নালগোন্ডা পদ্ধতির সাহায্যে জলে নির্দিষ্ট অনুপাতে অ্যালুমিনিয়াম লবণ (যেমন- ফিটকিরি), চুন এবং ব্লিচিং পাউডার মিশিয়ে ফ্লুরাইডকে অধঃক্ষিপ্ত করে আলাদা করা যায়। -
আয়নমুক্ত জল ও পাতিত জলের মধ্যে তুলনা করো।
উত্তর: আয়নমুক্ত জলে কোনো খনিজ আয়ন থাকে না, তবে অ-আয়নিক জৈব অশুদ্ধি বা জীবাণু থাকতে পারে। অন্যদিকে, পাতিত জল হলো সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ জল, যাতে কোনো আয়ন, জৈব অশুদ্ধি বা জীবাণু কিছুই থাকে না। তাই ল্যাবরেটরির সূক্ষ্ম রাসায়নিক কাজে পাতিত জল বেশি উপযোগী।
