
জীবনবিজ্ঞান: বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ) – পর্ব 1
অধ্যায়: জীবনের প্রবাহমানতা (কোশ বিভাজন, জনন ও মানব বিকাশ)
1. জিন মূলত কোল্টির অংশ?
সঠিক উত্তর: B) DNA[cite: 23]
বিশ্লেষণ: জিন হলো DNA-এর একটি সুনির্দিষ্ট অংশ, যা জীবের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যগুলি এক জনু থেকে পরবর্তী জনুতে বহন করে এবং নির্দিষ্ট প্রোটিন সংশ্লেষের সংকেত ধারণ করে।
2. মানবদেহে অটোজোমের সংখ্যা হল –
সঠিক উত্তর: C) 44টি[cite: 24]
বিশ্লেষণ: মানুষের প্রতিটি দেহকোশে মোট 46টি বা 23 জোড়া ক্রোমোজোম থাকে। এর মধ্যে 44টি (বা 22 জোড়া) হলো অটোজোম এবং বাকি 2টি হলো সেক্স ক্রোমোজোম।
3. মানবদেহের মাইটোসিস কোশবিভাজনে সদ্য সৃষ্ট অপত্য কোশের প্রতিটি ক্রোমোজোম কটি DNA অণু কুণ্ডলীকৃত হয়ে গঠিত হয়?
সঠিক উত্তর: B) 1[cite: 26]
বিশ্লেষণ: অ্যানাফেজ দশায় ক্রোমাটিডগুলি আলাদা হয়ে অপত্য ক্রোমোজোম গঠন করে, তাই সদ্য সৃষ্ট অপত্য কোশের প্রতিটি ক্রোমোজোমে একটিই DNA অণু কুণ্ডলীকৃত অবস্থায় থাকে।
4. ক্রোমোজোমে অধিক ঘনত্বযুক্ত পুঁতির মতো অংশগুলিকে বলে –
সঠিক উত্তর: C) ক্রোমোমিয়ার[cite: 26]
বিশ্লেষণ: ক্রোমোজোমের ক্রোমোনিমাটায় যে অধিক ঘনত্বযুক্ত ও রঞ্জিত পুঁতির মতো গঠন দেখা যায়, তাদের ক্রোমোমিয়ার (Chromomere) বলা হয়।
5. সেন্ট্রোমিয়ার ক্রোমোজোমের শেষপ্রান্তে থাকলে তাকে বলে –
সঠিক উত্তর: C) টেলোসেন্ট্রিক[cite: 26]
বিশ্লেষণ: সেন্ট্রোমিয়ার ক্রোমোজোমের একেবারে শেষপ্রান্তে বা টেলোমিয়ারের কাছাকাছি অবস্থান করলে, সেই ধরনের ক্রোমোজোমকে টেলোসেন্ট্রিক (Telocentric) ক্রোমোজোম বলে।
6. স্যাটেলাইট থাকে ক্রোমোজোমের –
সঠিক উত্তর: C) গৌণ খাঁজে[cite: 26]
বিশ্লেষণ: ক্রোমোজোমের গৌণ খাঁজ (Secondary constriction) সংলগ্ন গোলাকার বা বাল্বের মতো অংশটিকে স্যাটেলাইট বলে। যে ক্রোমোজোমে স্যাটেলাইট থাকে তাকে SAT-ক্রোমোজোম বলে।
7. ক্রোমোজোমে আম্লিক প্রোটিনে কোন্ অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে?
সঠিক উত্তর: C) ট্রিপটোফ্যান[cite: 27]
বিশ্লেষণ: ক্রোমোজোমের নন-হিস্টোন বা আম্লিক প্রোটিনে প্রধানত ট্রিপটোফ্যান ও টাইরোসিন নামক অ্যামাইনো অ্যাসিড বেশি পরিমাণে থাকে।
8. কোন কোশ বিভাজনকে সদৃশ বিভাজন বলে?
সঠিক উত্তর: A) মাইটোসিস[cite: 27]
বিশ্লেষণ: মাইটোসিস কোশ বিভাজনে মাতৃকোশ ও অপত্য কোশের ক্রোমোজোম সংখ্যা এবং গুণগত মান হুবহু একই থাকে, তাই একে সমবিভাজন বা সদৃশ বিভাজন বলে।
9. মাইটোসিস কোশ বিভাজনের কোন্ দশায় বেম গঠিত হয়?
সঠিক উত্তর: B) মেটাফেজ[cite: 28]
বিশ্লেষণ: প্রফেজ দশার শেষে বেম বা স্পিন্ডল ফাইবার (Spindle fiber) গঠিত হতে শুরু করে এবং মেটাফেজ দশায় এটি সম্পূর্ণভাবে গঠিত হয়।
10. কোন প্রকার জননে মাইটোসিস এবং মিয়োসিস দুই প্রকার কোশ বিভাজনই দেখা যায়?
সঠিক উত্তর: B) যৌন জনন[cite: 31]
বিশ্লেষণ: যৌন জননে গ্যামেট উৎপাদনের সময় ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক করতে মিয়োসিস ঘটে এবং জাইগোট থেকে নতুন জীবদেহ গঠনের সময় মাইটোসিস ঘটে।
11. নিম্নলিখিত কার ক্ষেত্রে খন্ডীভবন দেখা যায়?
সঠিক উত্তর: B) স্পাইরোগাইরা[cite: 33]
বিশ্লেষণ: স্পাইরোগাইরা (Spirogyra) নামক শৈবালের দেহ কোনো কারণে খণ্ডিত হলে, প্রতিটি খণ্ড বৃদ্ধি পেয়ে একটি সম্পূর্ণ নতুন স্পাইরোগাইরা গঠন করে। একে খন্ডীভবন বলে।
12. জীবদেহের কোনো কাটা অংশ থেকে অপত্য জীব সৃষ্টি হলে তাকে বলে –
সঠিক উত্তর: C) পুনরুৎপাদন[cite: 34]
বিশ্লেষণ: জীবের কোনো কাটা বা ছিন্ন অংশ থেকে সম্পূর্ণ নতুন জীব সৃষ্টি হওয়ার পদ্ধতিকে পুনরুৎপাদন (Regeneration) বলে। যেমন: প্ল্যানেরিয়া বা তারামাছ।
জীবনবিজ্ঞান: বহুবিকল্পভিত্তিক প্রশ্নোত্তর (MCQ) – পর্ব 2
অধ্যায়: জীবনের প্রবাহমানতা (কোশ বিভাজন, জনন ও মানব বিকাশ)
13. তুমি মাইটোসিস কোশ বিভাজনের একটি দশায় সিস্টার ক্রোমাটিডদ্বয়কে আলাদা হতে দেখলে। দশাটি হল-
সঠিক উত্তর: C) অ্যানাফেজ[cite: 23]
বিশ্লেষণ: অ্যানাফেজ দশায় সেন্ট্রোমিয়ার বিভক্ত হয়ে সিস্টার ক্রোমাটিড দুটি আলাদা হয়ে যায় এবং বেমের দুই বিপরীত মেরুর দিকে অগ্রসর হতে থাকে।
14. ফুলের কোন্ অংশ পরাগযোগের জন্য কীটপতঙ্গদের আকর্ষণ করে?
সঠিক উত্তর: B) পাপড়ি[cite: 24]
বিশ্লেষণ: ফুলের পাপড়িগুলো (দলমণ্ডল) উজ্জ্বল বর্ণের এবং সুগন্ধযুক্ত হওয়ায় কীটপতঙ্গ, পাখি প্রভৃতি প্রাণীরা সহজেই আকৃষ্ট হয় এবং পরাগযোগে সাহায্য করে।
15. মানুষের বৃদ্ধির 12-20 বছর বয়স পর্যন্ত দশাকে বলে-
সঠিক উত্তর: B) বয়ঃসন্ধিকাল[cite: 24]
বিশ্লেষণ: 12 থেকে 18 বা 20 বছর বয়সকালকে বয়ঃসন্ধিকাল (Adolescence) বলে। এই সময় মানুষের মুখ্য বৃদ্ধিকাল এবং যৌনলক্ষণগুলি স্পষ্ট হতে শুরু করে।
16. নিম্নলিখিত কোন্টি ইতর পরাগযোগের বৈশিষ্ট্য তা নির্বাচন করো।
সঠিক উত্তর: D) পরাগরেণুর অপচয় বেশি হয়[cite: 26]
বিশ্লেষণ: ইতর পরাগযোগে বাহকের (যেমন: পতঙ্গ, বায়ু, জল) প্রয়োজন হয়। এক ফুল থেকে অন্য ফুলে বাহকের মাধ্যমে পরাগরেণু যাওয়ার সময় প্রচুর পরাগরেণু নষ্ট বা অপচয় হয়।
17. একটি মাতৃকোশ থেকে চারটি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়-
সঠিক উত্তর: B) মিয়োসিসে[cite: 28]
বিশ্লেষণ: মিয়োসিস কোশ বিভাজনে একটি মাতৃকোশ পরপর দুবার বিভাজিত হয়ে মোট চারটি হ্যাপ্লয়েড (n) অপত্য কোশ সৃষ্টি করে।
18. কোন্ দশায় ক্রোমোজোমগুলি বেমের বিষুব অঞ্চলে অবস্থান করে?
সঠিক উত্তর: B) মেটাফেজ[cite: 28]
বিশ্লেষণ: মেটাফেজ দশায় ক্রোমোজোমগুলি বেমের ঠিক মাঝখানে অর্থাৎ বিষুব অঞ্চলে বা নিরক্ষীয় তলে এসে অবস্থান করে।
19. মানুষের প্রতিটি দেহকোশে সেক্স ক্রোমোজোম থাকে-
সঠিক উত্তর: A) দুটি[cite: 29]
বিশ্লেষণ: মানুষের প্রতিটি দেহকোশে মোট ক্রোমোজোম থাকে 46টি। এর মধ্যে 44টি হলো অটোজোম এবং 2টি (বা এক জোড়া) হলো সেক্স ক্রোমোজোম।
20. কোন্ দশায় ক্রোমোজোমগুলি বেমের দুই বিপরীত মেরুর দিকে ধাবমান হয়?
সঠিক উত্তর: C) অ্যানাফেজ[cite: 30]
বিশ্লেষণ: অ্যানাফেজ দশায় বেমতন্তুগুলির সংকোচনের ফলে ক্রোমোজোমগুলি বিষুব অঞ্চল থেকে আলাদা হয়ে দুই বিপরীত মেরুর দিকে চলতে শুরু করে। একে অ্যানাফেজীয় চলন বলে।
21. মানুষের ক্ষেত্রে নিম্নলিখিতগুলির মধ্যে কোন্ন্টি একজন স্বাভাবিক পুরুষের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?
সঠিক উত্তর: B) 44A + XY[cite: 30]
বিশ্লেষণ: একজন স্বাভাবিক পুরুষের দেহকোশে 44টি অটোজোম (44A) এবং এক জোড়া সেক্স ক্রোমোজোম (X এবং Y) থাকে।
22. অযৌন জনন সম্পন্নকারী একটি প্রাণী হল-
সঠিক উত্তর: C) অ্যামিবা[cite: 32]
বিশ্লেষণ: অ্যামিবা একটি এককোষী প্রাণী, যা দ্বিবিভাজন বা বহুবিভাজন পদ্ধতি নামক অযৌন জননের মাধ্যমে বংশবিস্তার করে।
23. স্ত্রীলোকের লিঙ্গ নির্ধারক ক্রোমোজোম কোন্টি?
সঠিক উত্তর: B) XX[cite: 34]
বিশ্লেষণ: মানব প্রজাতির স্ত্রীলোকদের সেক্স ক্রোমোজোম দুটি একই প্রকৃতির হয়, যা হলো XX।
24. মিয়োসিসের তাৎপর্য সংক্রান্ত নীচের কোন্ বক্তব্যটি সঠিক তা সঠিকভাবে নিরূপণ করো।
সঠিক উত্তর: C) বংশগত প্রকরণবাহী হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপাদন করে[cite: 34, 35]
বিশ্লেষণ: মিয়োসিস বিভাজনের সময় ক্রসিং ওভার ঘটে, যার ফলে জিনের পুনর্বিন্যাস বা প্রকরণ (Variation) তৈরি হয় এবং হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট সৃষ্টি হয়।
25. দুটি গ্যামেটের মিলনকে বলে-
সঠিক উত্তর: C) নিষেক[cite: 38]
বিশ্লেষণ: পুং গ্যামেট এবং স্ত্রী গ্যামেটের সম্পূর্ণ মিলনকে নিষেক (Fertilization) বলে।
26. নীচের কোন্টি DNA-র গঠনগত উপাদান নয়?
সঠিক উত্তর: B) ইউরাসিল ক্ষারক[cite: 40]
বিশ্লেষণ: ইউরাসিল ক্ষারক DNA-তে থাকে না, এটি শুধুমাত্র RNA-তে থাইমিনের পরিবর্তে অবস্থান করে।
27. নীচের কোন্ জোড়টি সঠিক?
সঠিক উত্তর: A) কোরকোম – ইস্ট[cite: 41]
বিশ্লেষণ: ইস্ট (Yeast) নামক এককোষী ছত্রাক কোরকোদগম বা বাডিং (Budding) প্রক্রিয়ায় বংশবিস্তার করে।
28. ইন্টারফেজ দশার উপদশাগুলির পর্যায়ক্রম কোন্টি?
সঠিক উত্তর: A) $$G_1 \rightarrow S \rightarrow G_2$$[cite: 42]
বিশ্লেষণ: কোশচক্রের ইন্টারফেজ দশার সঠিক ক্রম হলো প্রথমে গ্যাপ-1 ($$G_1$$), তারপর সংশ্লেষ বা সিন্থেসিস দশা ($$S$$) এবং শেষে গ্যাপ-2 ($$G_2$$)।
29. মাইটোসিস কোশবিভাজনের দীর্ঘস্থায়ী দশা কোন্টি?
সঠিক উত্তর: A) প্রফেজ[cite: 43]
বিশ্লেষণ: প্রফেজ হলো মাইটোসিস কোশ বিভাজনের প্রথম এবং সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী দশা।
🧬 ইন্টারেক্টিভ কুইজ: নিজেকে যাচাই করো
প্রশ্ন লোড হচ্ছে…
জীবনবিজ্ঞান: অতিসংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (পর্ব 3)
অধ্যায়: জীবনের প্রবাহমানতা (কোশ বিভাজন, জনন ও মানব বিকাশ)
B. এককথায় উত্তর দাও:
Marks – 1
1. S দশায় কী সংশ্লেষণ ঘটে?
উত্তর: DNA সংশ্লেষ বা প্রতিলিপিকরণ ঘটে।
বিশ্লেষণ: ইন্টারফেজের S (Synthesis) দশায় DNA-এর পরিমাণ দ্বিগুণ হয়।
Marks – 1
2. জিন কোথায় থাকে?
উত্তর: ক্রোমোজোমের উপর বা DNA-তে থাকে।
বিশ্লেষণ: জিন হলো DNA-এর একটি নির্দিষ্ট অংশ, যা ক্রোমোজোমের নির্দিষ্ট স্থানে (লোকাস) অবস্থান করে।
Marks – 1
3. কোথায় RNA জিনরূপে কাজ করে?
উত্তর: কিছু ভাইরাসের ক্ষেত্রে (যেমন- HIV, তামাকের মোজাইক ভাইরাস বা TMV)।
বিশ্লেষণ: যেসব ভাইরাসে DNA থাকে না, তাদের দেহে RNA-ই বংশগতির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে।
Marks – 1
4. মানুষের ক্রোমোজোম সংখ্যা কত?
উত্তর: 46টি বা 23 জোড়া।
বিশ্লেষণ: এর মধ্যে 44টি অটোজোম এবং 2টি সেক্স ক্রোমোজোম।
Marks – 1
5. পুরুষের সেক্স ক্রোমোজোম কীভাবে প্রকাশ করা হয়?
উত্তর: XY দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
বিশ্লেষণ: মানব পুরুষদের একটি X ক্রোমোজোম এবং একটি ছোট Y ক্রোমোজোম থাকে।
Marks – 1
6. ক্রোমোনিমার পুঁতির দানার মতো অংশগুলিকে কী বলে?
উত্তর: ক্রোমোমিয়ার (Chromomere) বলে।
Marks – 1
7. মেটাসেন্ট্রিক ক্রোমোজোমে সেন্ট্রোমিয়ার কোথায় থাকে?
উত্তর: ক্রোমোজোমের ঠিক মাঝখানে।
বিশ্লেষণ: এই কারণে অ্যানাফেজীয় চলনের সময় এদের ইংরেজি V অক্ষরের মতো দেখায়।
Marks – 1
8. স্যাটেলাইটযুক্ত ক্রোমোজোমকে কী বলে?
উত্তর: স্যাট ক্রোমোজোম (SAT-Chromosome) বলে।
Marks – 1
9. DNA-র নাইট্রোজেন বেসগুলি কী কী?
উত্তর: পিউরিন (অ্যাডেনিন ও গুয়ানিন) এবং পিরিমিডিন (থাইমিন ও সাইটোসিন)।
Marks – 1
10. প্রাণীকোশের কোন্ অঙ্গাণু কোশ বিভাজনকালে বেম গঠন করে?
উত্তর: সেন্ট্রোজোম (Centrosome)।
বিশ্লেষণ: সেন্ট্রোজোমের সেন্ট্রিওল থেকে অ্যাস্ট্রাল রশ্মি বিচ্ছুরিত হয়ে বেমতন্তু গঠন করে।
Marks – 1
11. ভ্রুণের পরিস্ফুটনকালে কী ধরনের কোশ বিভাজন দেখা যায়?
উত্তর: মাইটোসিস কোশ বিভাজন।
Marks – 1
12. একটি মাতৃকোশ থেকে চারটি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয় কোন্ প্রকার কোশ বিভাজনে?
উত্তর: মিয়োসিস কোশ বিভাজনে।
Marks – 1
13. ক্রোমোজোমের ক্রোমাটিডদ্বয় পরস্পর কোথায় সংলগ্ন থাকে?
উত্তর: সেন্ট্রোমিয়ার অঞ্চলে (Centromere)।
Marks – 1
14. কোশ বিভাজনের কোন্ দশায় নিউক্লিওলাসের বিলুপ্তি ঘটে?
উত্তর: প্রফেজ দশায়।
Marks – 1
15. কোন্ অঙ্গাণু উদ্ভিদ কোশের কোশ বিভাজনকালে বেম গঠন করে?
উত্তর: মাইক্রোটিবিউল (Microtubules)।
বিশ্লেষণ: উদ্ভিদ কোশে সেন্ট্রোজোম থাকে না, তাই মাইক্রোটিবিউলগুলি একত্রিত হয়ে বেমতন্তু গঠন করে। একে অ্যানাস্ট্রাল বেম বলে।
🧩 সেল্ফ-অ্যাসেসমেন্ট কুইজ
প্রশ্ন লোড হচ্ছে…
জীবনবিজ্ঞান: সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (পর্ব 5)
অধ্যায়: জীবনের প্রবাহমানতা (কোশ বিভাজন, জনন ও মানব বিকাশ)
C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (1 থেকে 13):
Marks – 2
1. ক্রোমোজোম কাকে বলে?
উত্তর: ইউক্যারিওটিক কোশের নিউক্লিয়াসে উপস্থিত ক্রোমাটিন জালিকা থেকে সৃষ্ট, নিউক্লিওপ্রোটিন দিয়ে গঠিত যে দণ্ডাকার বা সূত্রাকার স্বপ্রজননশীল অংশ জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যগুলি বহন করে, তাকে ক্রোমোজোম (Chromosome) বলে।
Marks – 2
2. জিনের দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করো।
উত্তর: জিনের দুটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো-
- জিন ক্রোমোজোমের একটি নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে, যাকে লোকাস (Locus) বলে।
- জিন जीवोंর বংশগত বৈশিষ্ট্যগুলি (যেমন- চোখের রং, উচ্চতা) এক জনু থেকে অপর জনুতে বা বংশপরম্পরায় বহন করে এবং নির্দিষ্ট প্রোটিন সংশ্লেষের সংকেত ধারণ করে।
Marks – 2
3. অটোজোম কাকে বলে? মানব কোশে অটোজোমের সংখ্যা কটি?
উত্তর:
- অটোজোম: যেসব ক্রোমোজোম জীবের লিঙ্গ নির্ধারণে অংশগ্রহণ করে না, শুধুমাত্র দেহজ বৈশিষ্ট্য (যেমন- গায়ের রং, চুলের ধরন) নিয়ন্ত্রণ করে, তাদের অটোজোম বলে।
- সংখ্যা: মানবদেহের প্রতিটি কোশে অটোজোমের সংখ্যা 44টি বা 22 জোড়া।
Marks – 2
4. সেক্স ক্রোমোজোম কাকে বলে? পুরুষ-স্ত্রীদের সেক্স ক্রোমোজোম কীভাবে প্রকাশ করা হয়?
উত্তর:
- সেক্স ক্রোমোজোম: যেসব ক্রোমোজোম প্রধানত জীবের লিঙ্গ নির্ধারণে (পুরুষ না স্ত্রী হবে তা স্থির করতে) সাহায্য করে, তাদের সেক্স ক্রোমোজোম বা অ্যালোজোম বলে।
- প্রকাশ: পুরুষদের সেক্স ক্রোমোজোম XY দ্বারা এবং স্ত্রীদের সেক্স ক্রোমোজোম XX দ্বারা প্রকাশ করা হয়।
Marks – 2
5. সেন্ট্রোমিয়ার কাকে বলে?
উত্তর: ক্রোমোজোমের প্রাথমিক খাঁজ (Primary constriction) অঞ্চলে অবস্থিত যে অরঞ্জিত ও ঘন গোলাকার অংশের সাথে ক্রোমোজোমের দুটি ক্রোমাটিড পরস্পর যুক্ত থাকে, তাকে সেন্ট্রোমিয়ার (Centromere) বা কাইনেটোকোর অঞ্চল বলে। অ্যানাফেজ দশায় এখানেই বেমতন্তু যুক্ত হয়।
Marks – 2
6. সেন্ট্রোমিয়ারের উপস্থিতি অনুসারে ক্রোমোজোম কত প্রকারের হয় ও কী কী?
উত্তর: সেন্ট্রোমিয়ারের অবস্থান অনুসারে ক্রোমোজোম প্রধানত ৪ প্রকারের হয়-
- মেটাসেন্ট্রিক: সেন্ট্রোমিয়ার ঠিক মাঝখানে থাকে (V আকৃতির)।
- সাব-মেটাসেন্ট্রিক: সেন্ট্রোমিয়ার মাঝখান থেকে সামান্য দূরে থাকে (L আকৃতির)।
- অ্যাক্রোসেন্ট্রিক: সেন্ট্রোমিয়ার প্রান্তের কাছাকাছি থাকে (J আকৃতির)।
- টেলোসেন্ট্রিক: সেন্ট্রোমিয়ার একদম শেষ প্রান্তে থাকে (i আকৃতির)।
Marks – 2
7. ক্রোমোজোমে কী কী ধরনের প্রোটিন থাকে?
উত্তর: ক্রোমোজোমে সাধারণত দুই ধরনের প্রোটিন উপস্থিত থাকে:
- ক্ষারীয় প্রোটিন বা হিস্টোন প্রোটিন: এতে আর্জিনিন, হিস্টিডিন, লাইসিন নামক ক্ষারীয় অ্যামাইনো অ্যাসিড বেশি থাকে।
- আম্লিক প্রোটিন বা নন-হিস্টোন প্রোটিন: এতে ট্রিপটোফ্যান, টাইরোসিন নামক আম্লিক অ্যামাইনো অ্যাসিড বেশি থাকে।
Marks – 2
8. ক্রোমোজোমে কী কী নিউক্লিক অ্যাসিড থাকে?
উত্তর: ক্রোমোজোমে দুই ধরনের নিউক্লিক অ্যাসিড থাকে:
- DNA: ডি-অক্সি রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (প্রধান নিউক্লিক অ্যাসিড, যা জিনের গঠনগত উপাদান)।
- RNA: রাইবোনিউক্লিক অ্যাসিড (খুব সামান্য পরিমাণে থাকে)।
Marks – 2
9. নন-জেনেটিক RNA কত প্রকারের হয়?
উত্তর: নন-জেনেটিক RNA (যাদের কাজ বংশগত বৈশিষ্ট্য বহন করা নয়, বরং প্রোটিন সংশ্লেষ করা) প্রধানত ৩ প্রকারের হয়:
- mRNA: ম্যাসেঞ্জার RNA (সংকেত বহন করে)।
- tRNA: ট্রান্সফার RNA (অ্যামাইনো অ্যাসিড বহন করে)।
- rRNA: রাইবোজোমাল RNA (রাইবোজোম গঠন করে)।
Marks – 2
10. নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে DNA ও RNA-র মধ্যে পার্থক্য লেখো- পিরিমিডিন ক্ষারক, 5-C যুক্ত শর্করা।
উত্তর:
| বৈশিষ্ট্য | DNA | RNA |
|---|---|---|
| পিরিমিডিন ক্ষারক | সাইটোসিন (C) এবং থাইমিন (T) থাকে। | সাইটোসিন (C) এবং ইউরাসিল (U) থাকে। (থাইমিন থাকে না) |
| 5-C যুক্ত শর্করা | ডি-অক্সি রাইবোজ (Deoxyribose) শর্করা থাকে। | রাইবোজ (Ribose) শর্করা থাকে। |
Marks – 2
11. কোশ বিভাজনে সেন্ট্রোজোমের ভূমিকা কী?
উত্তর: প্রাণীকোশ বিভাজনের সময় সেন্ট্রোজোম দুটি সেন্ট্রিওলে বিভক্ত হয়ে দুই বিপরীত মেরুতে অবস্থান করে। এই সেন্ট্রিওলগুলি থেকে অ্যাস্ট্রাল রশ্মি নির্গত হয়ে মাকু বা বেমতন্তু (Spindle fiber) গঠন করে। বেমতন্তু ক্রোমোজোমগুলিকে আটকে রেখে তাদের অ্যানাফেজীয় চলনে সাহায্য করে।
Marks – 2
12. অ্যামাইটোসিস কাকে বলে?
উত্তর: যে সরল কোশ বিভাজন প্রক্রিয়ায় মাতৃকোশের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম কোনো রকম বেমতন্তু গঠন বা ক্রোমোজোমের আবির্ভাব ছাড়াই সরাসরি মাঝখান থেকে সংকুচিত হয়ে দুটি অপত্য কোশ সৃষ্টি করে, তাকে অ্যামাইটোসিস (Amitosis) বা প্রত্যক্ষ বিভাজন বলে। যেমন- অ্যামিবা, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদিতে দেখা যায়।
Marks – 2
13. মাইটোসিসের দুটি তাৎপর্য লেখো।
উত্তর: মাইটোসিস কোশ বিভাজনের দুটি প্রধান তাৎপর্য হলো:
- দেহের বৃদ্ধি: বহুকোষী জীবের জাইগোট থেকে মাইটোসিস পদ্ধতিতে কোশের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে পূর্ণাঙ্গ জীবদেহের বৃদ্ধি ঘটে।
- ক্ষত নিরাময় ও পুনরুৎপাদন: জীবদেহের কোনো স্থান কেটে বা আঘাতপ্রাপ্ত হলে, মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমেই নতুন কোশ তৈরি হয়ে সেই ক্ষতস্থান নিরাময় হয় এবং হারানো অঙ্গের পুনরুৎপাদন ঘটে।
🧩 সেল্ফ-অ্যাসেসমেন্ট কুইজ
প্রশ্ন লোড হচ্ছে…
জীবনবিজ্ঞান: সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (পর্ব 6 – ডাইরেক্ট প্রশ্নোত্তর)
অধ্যায়: জীবনের প্রবাহমানতা (কোশ বিভাজন, জনন ও মানব বিকাশ)
C. সংক্ষিপ্ত উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (14 থেকে 26):
Marks – 2
14. কোশচক্র কাকে বলে?
উত্তর: একটি কোশ বিভাজনের শেষ থেকে শুরু করে পরবর্তী কোশ বিভাজনের শেষ পর্যন্ত, কোশের বৃদ্ধি ও বিভাজনের বিভিন্ন দশার (যেমন- $$G_1$$, $$S$$, $$G_2$$ এবং $$M$$ দশা) ধারাবাহিক ও চক্রাকার আবর্তনকে কোশচক্র (Cell Cycle) বলে।
Marks – 2
15. মেটাফেজ দশার দুটি বৈশিষ্ট্য লেখো।
উত্তর: মেটাফেজ দশার প্রধান দুটি বৈশিষ্ট্য হলো:
- ক্রোমোজোমগুলি বেমের ঠিক মাঝখানে অর্থাৎ বিষুব অঞ্চলে বা নিরক্ষীয় তলে অবস্থান করে মেটাফেজ প্লেট গঠন করে।
- এই দশায় ক্রোমোজোমগুলি সবচেয়ে বেশি ঘনীভূত হয়, ফলে এরা সবচেয়ে মোটা ও স্পষ্ট দেখায়। এই দশাতেই ক্রোমোজোম গোনা সবচেয়ে সুবিধাজনক।
Marks – 2
16. বাইভ্যালেন্ট কাকে বলে?
উত্তর: মিয়োসিস-I এর প্রফেজ-I দশার জাইগোটিন উপদশায়, পিতৃ ও মাতৃ ক্রোমোজোম থেকে আগত সমসংস্থ (Homologous) ক্রোমোজোমগুলি পাশাপাশি এসে জোড় বাঁধে। এই জোড় বাঁধা সমসংস্থ ক্রোমোজোমদ্বয়কে একত্রে বাইভ্যালেন্ট (Bivalent) বা ডায়্যাড বলে।
Marks – 2
17. ইউক্রোমাটিন ও হেটারোক্রোমাটিন কাকে বলে?
উত্তর:
- ইউক্রোমাটিন: ক্রোমাটিনের যে অংশ ইন্টারফেজ দশায় হালকা রঙে এবং বিভাজন দশায় গাঢ় রঙে রঞ্জিত হয় ও যেখানে জিন সক্রিয় থাকে, তাকে ইউক্রোমাটিন বলে। এটি ক্রসিং ওভারে অংশগ্রহণ করে।
- হেটারোক্রোমাটিন: ক্রোমাটিনের যে অংশ ইন্টারফেজ দশায় গাঢ় রঙে এবং বিভাজন দশায় হালকা রঙে রঞ্জিত হয় ও যেখানে জিন সাধারণত নিষ্ক্রিয় থাকে, তাকে হেটারোক্রোমাটিন বলে। এটি ক্রসিং ওভারে অংশ নেয় না।
Marks – 2
18. মাইটোসিস ও মিয়োসিসের দুটি পার্থক্য দেখাও।
উত্তর:
| পার্থক্যকারী বিষয় | মাইটোসিস | মিয়োসিস |
|---|---|---|
| ঘটার স্থান | প্রধানত দেহকোশে (Somatic cell) ঘটে। | জনন মাতৃকোশে (Germ mother cell) বা রেণুমাত্রিকোষে ঘটে। |
| অপত্য কোশ ও ক্রোমোজোম | ১টি মাতৃকোশ থেকে ২টি অপত্য কোশ তৈরি হয় এবং ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোশের সমান থাকে (সমবিভাজন)। | ১টি মাতৃকোশ থেকে ৪টি অপত্য কোশ তৈরি হয় এবং ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক হয়ে যায় (হ্রাস বিভাজন)। |
Marks – 2
19. অযৌন জনন ও যৌন জননের মধ্যে নিম্নলিখিত বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে পার্থক্য নিরূপণ করো: (i) জনিতৃ জীবের সংখ্যা, (ii) অপত্য জনুর প্রকৃতি।
উত্তর:
| বৈশিষ্ট্য | অযৌন জনন | যৌন জনন |
|---|---|---|
| (i) জনিতৃ জীবের সংখ্যা | কেবলমাত্র 1 টি জনিতৃ জীবের প্রয়োজন হয়। | সাধারণত 2 টি জনিতৃ জীবের (পুং ও স্ত্রী) প্রয়োজন হয়। |
| (ii) অপত্য জনুর প্রকৃতি | অপত্য জীব হুবহু জনিতৃ জীবের মতো হয় (ক্লোন তৈরি হয়)। | গ্যামেটের মিলন ও ক্রসিং ওভারের কারণে অপত্য জীবে নতুন বৈশিষ্ট্য বা প্রকরণ দেখা যায়। |
Marks – 2
20. গ্রাফটিং কাকে বলে?
উত্তর: গ্রাফটিং (Grafting) বা জোড়কলম হলো কৃত্রিম অঙ্গজ জননের এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে একই প্রজাতিভুক্ত দুটি ভিন্ন উদ্ভিদের কাণ্ড বা শাখাকে এমনভাবে জুড়ে দেওয়া হয় যাতে তারা একত্রে একটিমাত্র গাছ হিসেবে বৃদ্ধি পায়। মূলসহ যে গাছটিতে জোড়া লাগানো হয় তাকে স্টক (Stock) এবং যে উন্নত ডালটি জোড়া হয় তাকে সিয়ন (Scion) বলে। যেমন- আম, লেবু ইত্যাদি গাছে করা হয়।
Marks – 2
20 (অথবা). মিয়োসিস কোশ বিভাজনের সময় ক্রোমোজোম সংখ্যার হ্রাস ও ক্রোমাটিডের মধ্যে খন্ড বিনিময় ঘটে-এই ঘটনা দুটির তাৎপর্য কী কী তা বিশ্লেষণ করো।
উত্তর:
- ক্রোমোজোম সংখ্যার হ্রাস: এর ফলে উৎপন্ন গ্যামেটগুলি হ্যাপ্লয়েড (n) হয়। নিষেকের পর জাইগোট পুনরায় ডিপ্লয়েড (2n) হয়, যার ফলে প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা বংশপরম্পরায় ধ্রুবক থাকে।
- খণ্ড বিনিময় (Crossing Over): সমসংস্থ ক্রোমোজোমের নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে খণ্ড বিনিময়ের ফলে জিনের নতুন বিন্যাস বা রিকম্বিনেশন ঘটে। এর ফলে জীবের মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্য বা প্রকরণ (Variation) সৃষ্টি হয় যা বিবর্তনে সাহায্য করে।
Marks – 2
21. জনুক্রম কাকে বলে?
উত্তর: কোনো জীবের জীবনচক্রে রেনুধর দশা (ডিপ্লয়েড বা 2n) এবং লিঙ্গধর দশার (হ্যাপ্লয়েড বা n) পর্যায়ক্রমিক আবর্তনকে জনুক্রম (Alternation of generations) বলে। যেমন- ফার্ন ও মসের জীবনচক্রে জনুক্রম স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
Marks – 2
22. নিষেক কাকে বলে?
উত্তর: যৌন জনন প্রক্রিয়ায় দুটি ভিন্নধর্মী জনন কোশ অর্থাৎ পুং গ্যামেট (শুক্রাণু) ও স্ত্রী গ্যামেটের (ডিম্বাণু) সম্পূর্ণ ও স্থায়ী মিলনকে নিষেক (Fertilization) বলে। নিষেকের ফলে ডিপ্লয়েড (2n) জাইগোট বা ভ্রূণাণু তৈরি হয়।
Marks – 2
23. নিম্নলিখিতগুলির উপর ভিত্তি করে মানুষের অটোজোম ও সেক্স ক্রোমোজোমের মধ্যে পার্থক্য দেখাও – প্রকৃতি, সংখ্যা।
উত্তর:
| বৈশিষ্ট্য | অটোজোম | সেক্স ক্রোমোজোম |
|---|---|---|
| প্রকৃতি | এরা জীবের লিঙ্গ নির্ধারণ করে না, শুধুমাত্র দেহজ বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। | এরা প্রধানত জীবের লিঙ্গ (পুরুষ বা স্ত্রী) নির্ধারণ করে। |
| সংখ্যা | মানুষের দেহকোশে এর সংখ্যা 44 টি বা 22 জোড়া। | মানুষের দেহকোশে এর সংখ্যা 2 টি বা 1 জোড়া (XX বা XY)। |
Marks – 2
24. কোশচক্রে নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হওয়ার সঙ্গে মানবদেহে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার সৃষ্টি হওয়ার সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করো।
উত্তর: কোশচক্রের নির্দিষ্ট চেক পয়েন্টগুলি কোশের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিভাজন নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো কারণে (যেমন- কার্সিনোজেনিক পদার্থের প্রভাবে) এই চেক পয়েন্টগুলির নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে কোশগুলি অনিয়ন্ত্রিতভাবে ও দ্রুত বিভাজিত হতে থাকে। এর ফলে অতিরিক্ত কোশপিণ্ড তৈরি হয়ে টিউমার সৃষ্টি হয়, যা রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বা ক্যানসার-এ রূপ নেয়।
Marks – 2
25. চারগাফের নীতিটি কী?
উত্তর: বিজ্ঞানী এরউইন চারগাফের (Erwin Chargaff) নীতি অনুযায়ী, কোনো দ্বিতন্ত্রী (Double-stranded) DNA অণুতে পিউরিন ক্ষারকের (A + G) মোট পরিমাণ সর্বদা পিরিমিডিন ক্ষারকের (T + C) মোট পরিমাণের সমান হয়। অর্থাৎ, অ্যাডেনিন সর্বদা থাইমিনের সমান (A = T) এবং গুয়ানিন সর্বদা সাইটোসিনের সমান (G = C) হবে।
Marks – 2
26. কোশচক্রে কটি চেক পয়েন্ট আছে ও কী কী?
উত্তর: একটি আদর্শ কোশচক্রে প্রধানত 3 টি চেক পয়েন্ট (Checkpoints) থাকে। এগুলি হলো:
- $$G_1/S$$ চেক পয়েন্ট: $$G_1$$ দশা থেকে $$S$$ দশায় যাওয়ার আগে কাজ করে।
- $$G_2/M$$ চেক পয়েন্ট: $$G_2$$ দশা থেকে মাইটোটিক ($$M$$) দশায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করে।
- $$M$$ চেক পয়েন্ট: মেটাফেজ থেকে অ্যানাফেজে যাওয়ার সময় বেমতন্তু ঠিকঠাক যুক্ত হয়েছে কিনা তা দেখে।
D. দীর্ঘ উত্তরভিত্তিক প্রশ্ন (প্রশ্নমান-5)
1. ক্রোমোজোম কী? ক্রোমোজোম কীভাবে সৃষ্টি হয়?
মান: 2+3=5
ক্রোমোজোম কী:
ইউক্যারিওটিক কোশের নিউক্লিয়াসের নিউক্লিওপ্লাজমে উপস্থিত ক্রোমাটিন জালিকা থেকে সৃষ্ট, নিউক্লিওপ্রোটিন (DNA, RNA ও প্রোটিন) দ্বারা গঠিত যে দণ্ডাকার বা সূত্রাকার স্বপ্রজননশীল অংশ জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যগুলি এক জনু থেকে অপর জনুতে বহন করে, তাকে ক্রোমোজোম (Chromosome) বলে।
ক্রোমোজোম সৃষ্টির পদ্ধতি:
ক্রোমাটিন জালিকা থেকে ক্রোমোজোম সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি প্রধানত কোশ বিভাজনের সময় ঘটে। এর ধাপগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:
ইউক্যারিওটিক কোশের নিউক্লিয়াসের নিউক্লিওপ্লাজমে উপস্থিত ক্রোমাটিন জালিকা থেকে সৃষ্ট, নিউক্লিওপ্রোটিন (DNA, RNA ও প্রোটিন) দ্বারা গঠিত যে দণ্ডাকার বা সূত্রাকার স্বপ্রজননশীল অংশ জীবের বংশগত বৈশিষ্ট্যগুলি এক জনু থেকে অপর জনুতে বহন করে, তাকে ক্রোমোজোম (Chromosome) বলে।
ক্রোমোজোম সৃষ্টির পদ্ধতি:
ক্রোমাটিন জালিকা থেকে ক্রোমোজোম সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি প্রধানত কোশ বিভাজনের সময় ঘটে। এর ধাপগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:
- অবিভাজন দশা (Interphase): কোশ যখন বিভাজিত হয় না (ইন্টারফেজ দশা), তখন নিউক্লিয়াসের ভেতরে DNA এবং প্রোটিন (হিস্টোন ও নন-হিস্টোন) তন্তুগুলি জট পাকিয়ে সূক্ষ্ম সুতোর মতো গঠন তৈরি করে। একে ক্রোমাটিন জালিকা বা নিউক্লিও জালক বলে।
- জলের বিয়োজন ও ঘনীভবন: কোশ বিভাজন শুরু হওয়ার সাথে সাথে (প্রফেজ দশায়) এই ক্রোমাটিন জালিকাগুলি থেকে জলের বিয়োজন (Dehydration) ঘটে। জল বেরিয়ে যাওয়ার ফলে এই সুতোগুলির প্যাঁচ খুলতে শুরু করে।
- কুণ্ডলীকরণ (Coiling): জল বিয়োজিত ক্রোমাটিন তন্তুগুলি ক্রমশ স্প্রিং-এর মতো কুণ্ডলীকৃত হতে শুরু করে এবং অত্যন্ত ঘনীভূত হয়ে যায়।
- পূর্ণাঙ্গ ক্রোমোজোম গঠন: ঘনীভবনের ফলে ক্রোমাটিন তন্তুগুলি ক্রমশ মোটা, খাটো এবং স্পষ্ট হতে থাকে। এই অত্যন্ত ঘনীভূত ও কুণ্ডলীকৃত নির্দিষ্ট সংখ্যক এবং নির্দিষ্ট আকৃতির দণ্ডাকার অংশগুলিই হলো ক্রোমোজোম।
চিত্র: ক্রোমাটিন জালিকা থেকে ক্রোমোজোম সৃষ্টির পর্যায়
2. মাইটোসিস কোথায় ঘটে? মাইটোসিসের প্রফেজ দশার বর্ণনা দাও।
মান: 2+3=5
মাইটোসিস কোথায় ঘটে:
মাইটোসিস কোশ বিভাজন প্রধানত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহকোশে (Somatic cells) ঘটে।
প্রফেজ হলো মাইটোসিস কোশ বিভাজনের প্রথম এবং সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী দশা। এই দশার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:
(বিঃদ্রঃ পরীক্ষার খাতায় এই উত্তরের সাথে পেন্সিল দিয়ে চিহ্নিত চিত্রটি অবশ্যই আঁকতে হবে।)
মাইটোসিস কোশ বিভাজন প্রধানত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহকোশে (Somatic cells) ঘটে।
- উদ্ভিদের ক্ষেত্রে: উদ্ভিদের বর্ধনশীল অঙ্গে, অর্থাৎ মূল ও কাণ্ডের অগ্রভাগে, পাতা, ভ্রূণমূল, ভ্রূণমুকুল এবং ভাজক কলায় (Meristematic tissue) মাইটোসিস ঘটে।
- প্রাণীদের ক্ষেত্রে: প্রাণীদের সাধারণ দেহকোশে এবং মাতৃগর্ভে ভ্রূণের পরিস্ফুটনকালে মাইটোসিস কোশ বিভাজন দেখা যায়।
প্রফেজ হলো মাইটোসিস কোশ বিভাজনের প্রথম এবং সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী দশা। এই দশার প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলি নিচে আলোচনা করা হলো:
- ক্রোমোজোম গঠন: এই দশার শুরুতে নিউক্লিয়াস থেকে জলের বিয়োজন (Dehydration) ঘটতে থাকে। এর ফলে ক্রোমাটিন জালিকার সুতোগুলি ক্রমশ ঘনীভূত, মোটা ও ছোটো হয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যক ক্রোমোজোমে পরিণত হয়।
- ক্রোমাটিড সৃষ্টি: প্রতিটি ক্রোমোজোম সেন্ট্রোমিয়ার অঞ্চল ছাড়া লম্বালম্বিভাবে দুটি অর্ধাংশে বিভক্ত হয়ে দুটি সিস্টার ক্রোমাটিড (Sister chromatids) গঠন করে।
- নিউক্লিয়াস ও নিউক্লিয় পর্দার অবলুপ্তি: প্রফেজ দশার শেষের দিকে নিউক্লিওলাসটি আকারে ছোটো হতে হতে সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে যায় এবং নিউক্লিয় পর্দাও ধীরে ধীরে অবলুপ্ত হতে শুরু করে।
- বেম গঠনের সূচনা: প্রাণীকোশের ক্ষেত্রে সেন্ট্রোজোমের সেন্ট্রিওল দুটি বিভক্ত হয়ে দুই বিপরীত মেরুর দিকে অগ্রসর হয় এবং এদের চারপাশের অ্যাস্ট্রাল রশ্মিগুলি মিলে মাকু আকৃতির বেম বা স্পিন্ডল ফাইবার তৈরি করতে শুরু করে। উদ্ভিদের ক্ষেত্রে মাইক্রোটিবিউলগুলি একত্রিত হয়ে বেমতন্তু গঠন করে।
চিত্র: মাইটোসিস কোশ বিভাজনের প্রফেজ দশা (প্রাণীকোশ)
3. কোশচক্র কাকে বলে? কোশচক্রটি সংক্ষেপে বর্ণনা করো।
মান: 2+3=5
কোশচক্র (Cell Cycle) কাকে বলে:
একটি কোশের বিভাজন শেষ হওয়া থেকে শুরু করে পরবর্তী কোশ বিভাজন শেষ হওয়া পর্যন্ত কোশের বৃদ্ধি এবং বিভাজনের বিভিন্ন দশার (ইন্টারফেজ ও মাইটোটিক দশা) ধারাবাহিক ও চক্রাকার আবর্তনকে কোশচক্র বলে।
কোশচক্রের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:
একটি আদর্শ কোশচক্র প্রধানত দুটি পর্যায়ে বিভক্ত:
(বিঃদ্রঃ পরীক্ষার খাতায় কোশচক্রের এই চক্রাকার চিত্রটি পেন্সিল দিয়ে পরিষ্কারভাবে আঁকতে হবে।)
একটি কোশের বিভাজন শেষ হওয়া থেকে শুরু করে পরবর্তী কোশ বিভাজন শেষ হওয়া পর্যন্ত কোশের বৃদ্ধি এবং বিভাজনের বিভিন্ন দশার (ইন্টারফেজ ও মাইটোটিক দশা) ধারাবাহিক ও চক্রাকার আবর্তনকে কোশচক্র বলে।
কোশচক্রের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:
একটি আদর্শ কোশচক্র প্রধানত দুটি পর্যায়ে বিভক্ত:
- 1. ইন্টারফেজ (Interphase) বা অবিভাজন দশা: এটি দুটি বিভাজনের মধ্যবর্তী দীর্ঘতম দশা (কোশচক্রের প্রায় ৯০-৯৫% সময়)। এই দশায় কোশ বিভাজিত হয় না, তবে বিভাজনের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নেয়। এটি ৩টি উপদশায় বিভক্ত:
- $$G_1$$ (Gap 1) দশা: এই দশায় কোশের সর্বাধিক বৃদ্ধি ঘটে এবং DNA সংশ্লেষের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন ও RNA তৈরি হয়।
- $$S$$ (Synthesis) দশা: এটি সংশ্লেষ দশা। এই দশায় DNA-এর প্রতিলিপিকরণ (Replication) ঘটে, ফলে DNA-এর পরিমাণ দ্বিগুণ হয়।
- $$G_2$$ (Gap 2) দশা: এই দশায় কোশ বিভাজনের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি (ATP) এবং স্পিন্ডল ফাইবার গঠনের প্রোটিন সংশ্লেষিত হয়।
- 2. মাইটোটিক ফেজ ($$M$$ Phase) বা বিভাজন দশা: এটি কোশচক্রের স্বল্পস্থায়ী দশা (প্রায় ৫-১০% সময়)। এই দশায় কোশটি প্রকৃতভাবে বিভাজিত হয়। এর দুটি অংশ:
- ক্যারিওকাইনেসিস: নিউক্লিয়াসের বিভাজন। এর ৪টি দশা হলো প্রফেজ, মেটাফেজ, অ্যানাফেজ এবং টেলোফেজ।
- সাইটোকাইনেসিস: সাইটোপ্লাজমের বিভাজন, যার ফলে মাতৃকোশ থেকে দুটি অপত্য কোশ সৃষ্টি হয়।
- $$G_0$$ দশা (বিশ্রাম দশা): যেসব কোশ আর বিভাজিত হয় না (যেমন- স্নায়ুকোশ বা পেশিকোশ), তারা $$G_1$$ দশা থেকে বেরিয়ে একটি স্থায়ী অবিভাজন দশায় প্রবেশ করে, যাকে $$G_0$$ দশা বলে।
চিত্র: একটি আদর্শ কোশচক্রের বিভিন্ন দশা
5. মিয়োসিসকে হ্রাস বিভাজন বলে কেন? মিয়োসিসের তাৎপর্যগুলি উল্লেখ করো।
মান: 2+3=5
চিত্র: মিয়োসিস বিভাজনে ক্রোমোজোম সংখ্যার হ্রাস (2n থেকে n)
মিয়োসিস কোশ বিভাজনে একটি ডিপ্লয়েড ($$2n$$) মাতৃকোশ পরপর দু’বার বিভাজিত হয়ে মোট চারটি হ্যাপ্লয়েড ($$n$$) অপত্য কোশ (গ্যামেট বা রেণু) সৃষ্টি করে। যেহেতু এই বিভাজনে সৃষ্ট অপত্য কোশগুলির ক্রোমোজোম সংখ্যা মাতৃকোশের ক্রোমোজোম সংখ্যার ঠিক অর্ধেক হয়ে হ্রাস পায়, তাই মিয়োসিসকে হ্রাস বিভাজন (Reductional Division) বলা হয়।
মিয়োসিসের তাৎপর্য:
জীবজগতে মিয়োসিস বিভাজনের গুরুত্ব বা তাৎপর্য অপরিসীম। এর প্রধান তাৎপর্যগুলি হলো:
- ক্রোমোজোম সংখ্যা ধ্রুবক রাখা: মিয়োসিসের ফলে জনন কোশে (গ্যামেটে) ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেক ($$n$$) হয়ে যায়। নিষেকের সময় হ্যাপ্লয়েড পুং গ্যামেট ($$n$$) ও স্ত্রী গ্যামেটের ($$n$$) মিলনের ফলে জাইগোটে ক্রোমোজোম সংখ্যা পুনরায় ডিপ্লয়েড ($$2n$$) হয়ে যায়। এর ফলে বংশপরম্পরায় কোনো প্রজাতির ক্রোমোজোম সংখ্যা নির্দিষ্ট ও ধ্রুবক থাকে।
- গ্যামেট ও রেণু উৎপাদন: যৌন জননকারী জীবের ক্ষেত্রে জনন মাতৃকোশ থেকে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট (শুক্রাণু ও ডিম্বাণু) উৎপাদন করা মিয়োসিসের প্রধান কাজ। এছাড়া মস, ফার্ন প্রভৃতি উদ্ভিদের রেণু মাতৃকোশ থেকে মিয়োসিস প্রক্রিয়ায় রেণু উৎপন্ন হয়।
- প্রকরণ বা ভেদ সৃষ্টি (Variation): মিয়োসিস-I এর প্রফেজ-I দশায় সমসংস্থ ক্রোমোজোমগুলির নন-সিস্টার ক্রোমাটিডের মধ্যে দেহাংশের বিনিময় বা ক্রসিং ওভার (Crossing over) ঘটে। এর ফলে জিনের নতুন বিন্যাস বা রিকম্বিনেশন ঘটে, যা জীবের মধ্যে নতুন বৈশিষ্ট্য বা প্রকরণ সৃষ্টি করে। এই প্রকরণই জৈব বিবর্তনের (Evolution) মূল ভিত্তি।
6. উপযুক্ত উদাহরণসহ অযৌন জননের পাঁচটি পদ্ধতি বর্ণনা করো।
মান: 5
চিত্র: অযৌন জননের বিভিন্ন পদ্ধতি (বিভাজন ও কোরকোদগম)
যে জনন প্রক্রিয়ায় গ্যামেট উৎপাদন ছাড়াই জনিতৃ জীবের দেহকোশ বিভাজিত হয়ে অথবা রেণু সৃষ্টির মাধ্যমে অপত্য জীব সৃষ্টি হয়, তাকে অযৌন জনন বলে। এর পাঁচটি প্রধান পদ্ধতি নিচে উদাহরণসহ বর্ণনা করা হলো:
- 1. বিভাজন (Fission): এটি এককোষী জীবের একটি সাধারণ অযৌন জনন পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে মাতৃকোশের নিউক্লিয়াস ও সাইটোপ্লাজম সরাসরি বিভাজিত হয়ে দুই বা ততোধিক সমআকৃতির অপত্য কোশ বা জীব সৃষ্টি করে।
উদাহরণ: অ্যামিবা (Amoeba) দ্বিবিভাজন এবং বহুবিভাজন (যেমন- স্পোরুলেশন) পদ্ধতিতে বংশবিস্তার করে। এছাড়া ব্যাকটেরিয়া, ইউগ্লিনাতেও এই জনন দেখা যায়। - 2. কোরকোদগম বা বাডিং (Budding): এই প্রক্রিয়ায় মাতৃদেহের কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থান স্ফীত হয়ে একটি উপবৃদ্ধি বা কোরক (Bud) সৃষ্টি করে। মাতৃদেহ থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে কোরকটি বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় এবং পূর্ণাঙ্গ রূপ নেওয়ার পর মাতৃদেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীন অপত্য জীবে পরিণত হয়।
উদাহরণ: এককোষী ছত্রাক ইস্ট (Yeast) এবং বহুকোষী প্রাণী হাইড্রা (Hydra)-তে কোরকোদগম দেখা যায়। - 3. খণ্ডীভবন (Fragmentation): কোনো জলজ বা সূত্রাকার বহুকোষী জীবের দেহ জলস্রোতের কারণে, কোনো প্রাণীর আঘাতে বা স্বাভাবিক পরিণতিতে দুই বা ততোধিক খণ্ডে ভেঙে গেলে, প্রতিটি খণ্ড থেকে কোশ বিভাজনের মাধ্যমে নতুন পূর্ণাঙ্গ জীবের সৃষ্টি হয়।
উদাহরণ: স্পাইরোগাইরা (Spirogyra) নামক সূত্রাকার শৈবালে খণ্ডীভবন দেখা যায়। - 4. রেণু উৎপাদন বা স্পোরুলেশন (Sporulation): অপুষ্পক উদ্ভিদের অযৌন জননের প্রধান একক হলো রেণু (Spore)। এই পদ্ধতিতে মাতৃদেহের রেণুস্থলী (Sporangium) নামক বিশেষ অঙ্গের ভেতরে অসংখ্য ক্ষুদ্র, হালকা এবং এককোষী রেণু উৎপন্ন হয়। রেণুগুলি রেণুস্থলী বিদীর্ণ করে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনুকূল পরিবেশে (উপযুক্ত আর্দ্রতা ও উষ্ণতায়) অঙ্কুরিত হয়ে নতুন উদ্ভিদ সৃষ্টি করে।
উদাহরণ: মিউকর, রাইজোপাস (ছত্রাক) এবং মস, ফার্ন প্রভৃতি উদ্ভিদে এই পদ্ধতি দেখা যায়। - 5. পুনরুৎপাদন (Regeneration): জীবদেহের কোনো কাটা, ছিন্ন বা বিচ্ছিন্ন অংশ থেকে কোশ বিভাজনের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতুন এবং পূর্ণাঙ্গ জীব সৃষ্টি হওয়ার পদ্ধতিকে পুনরুৎপাদন বলে। অর্থাৎ জীবের কোনো অঙ্গ কেটে গেলে সেই খণ্ডিত অংশ থেকেই নতুন জীব জন্মায়।
উদাহরণ: প্ল্যানেরিয়া (Planaria) নামক চ্যাপ্টাকৃমি এবং তারামাছ (Starfish)-এ ব্যাপক মাত্রায় পুনরুৎপাদন ক্ষমতা দেখা যায়।
